Welcome to our fashion store!
Need Help : +8801777702000
Close
Filters
Search
শেকল ভাঙা এক বীরসেনানী  মতিউর রহমানের জন্মদিন আজ

শেকল ভাঙা এক বীরসেনানী মতিউর রহমানের জন্মদিন আজ

আজকের এই দিনে, ২৯ অক্টোবর ১৯৪১ সালের পুরান ঢাকার ১০৯ আগা সাদেক রোডের পৈত্রিক বাড়ি "মোবারক লজ"-এ  জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা, মৌলভী আব্দুস সামাদ ছিলেন সরকারী চাকুরে এবং মা মোবারকুন্নেসা ছিলেন গৃহিণী। ৯ ভাই ও ২ বোনের মধ্যে মতিউর রহমান ছিলেন  ৬ষ্ঠ। ১৯৫২ সালে মতিউরকে ঢাকা কলেজিয়েট স্কুলে ভর্তি হন।

প্রচন্ড মেধাবী মতিউর ১৯৫৬ সালে ভর্তি হন পাকিস্তান বিমান বাহিনী স্কুল, সারগোদায়। ১৯৬০ সালে সেখান থেকে প্রথম বিভাগে  মেট্রিক পরীক্ষায় সুনামের সাথে পাশ করেন তিনি ।এরপর ১৯৬১ সালে তৎকালীন পাকিস্তান বিমান বাহিনীতে যোগ দেন । এছাড়া তিনি কিছুকাল অন্তঃবাহিনী গোয়েন্দা সদর দফতর, ইসলামাবাদেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

মিলি খানের সাথে ১৯৬৮ সালের ১৯শে এপ্রিল তিনি বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। এই দম্পত্তির কোলজুড়ে আসে দুটি কন্যা সন্তান - মাহিন এবং তুহিন। 

সপরিবারে ১৯৭১ সালের জানুয়ারি মাসের শেষ সপ্তাহে বাৎসরিক ছুটিতে তিনি ঢাকায় আসেন। দেশপ্রেমিক মতিউর রহমান প্রত্যক্ষ ভাবে স্বাধীনতার  আন্দোলনের সাথে জড়িয়ে পড়েন। ১লা মার্চ কর্মস্থলে ফিরে যাবার কথা থাকলেও তিনি তা করেননি। ২৫শে মার্চ গ্রামের বাড়ি নরসিংদী গমন করেন এবং সেখানকার স্বাধীনতাকামী জনতার প্রশিক্ষনের বন্দোবস্ত করেন। ৪ঠা এপ্রিল পাকিস্তান বিমান বাহিনী নরসিংদীর উপর বিমান হামলা চালালে তিনি ভৈরব হয়ে নানার বাড়ি গোকুল নগরে গমন করেন।

পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী পাকিস্তান থেকে বিমান সংগ্রহের জন্য ৯ই মে ১৯৭১, তিনি সপরিবারে কর্মস্থলে ফিরে যান। নিয়মিত কাজের আড়ালে তিনি একটি বিমান ছিনতাই করে মুক্তিযুদ্ধে যোগদানের পরিকল্পনা করতে থাকেন। পরিকল্পনা মোতাবেক ২০শে আগস্ট ১৯৭১ সকাল ১১.১৫ মিনিটে পাঞ্জাবী পাইলট অফিসার রাশেদ মিনহাজসহ টি-৩৩ প্রশিক্ষণ বিমান ছিনতাই করে ভারত অভিমূখে উড্ডয়ন করেন। অপর পাইলটের সাথে কন্ট্রোল নিয়ে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে সিন্ধুর বেদিনে বিমানটি বিধ্বস্ত হলে উভয়েই শাহাদত বরণ করেন। পরে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সদস্যরা তার লাশ উদ্ধার করে মাশরুর বিমান ঘাটির ৪র্থ শ্রেণীর কবরস্তানে অত্যন্ত অমর্যাদার সাথে দাফন করে।

 বাংলাদেশ সরকার মতিউর রহমানকে তার সাহসী ভূমিকার জন্য বীর শ্রেষ্ঠ উপাধিতে ভূষিত করে এবং রাশেদ মিনহাজকে পাকিস্তান সরকার সম্মানসূচক খেতাব দান করে। প্রসঙ্গতঃ একই ঘটনায় দুই বিপরীত ভূমিকার জন্য দুইজনকে তাদের দেশের সর্বোচ্চ সম্মানসূচক খেতাব প্রদানের এমন ঘটনা বিরল।

শাহাদতের ৩৫ বছর পর ২৪শে জুন ২০০৬ সালে মতিউর রহমানের দেহাবশেষ পাকিস্তান হতে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা হয়। তাঁকে পূর্ণ মর্যাদায় ২৫শে জুন শহীদ বুদ্ধিজীবী গোরস্থানে পুনরায় দাফন করা হয়।

Source: https://www.banglawikipedia.com/

Leave your comment